এ এক অন্যরকম অনুভূতি
কয়েকদিন আগে অফিসে এসেছিলেন হেনা রানী আচার্য্য। ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন। স্বামী হারিয়েছেন বেশ আগেই। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন দরিদ্র ঘরে। এখন একা ঘরে একা থাকেন। ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাশ করেছেন। মানুষের কাছে হাত পাতা কি সাজে? সেলাই ফোঁড়া করে কোনোমতে চলেই যাচ্ছিল। বিপত্তি বাঁধল অসুখে। সম্প্রতি হার্ট এ্যাটাক হয়। ডাক্তার বলেছেন, রিং পরাতে হবে। এত টাকা কই পাবেন! অসুখের হলো আরেক অসুখ! গরীরের ঘাড়ে চেপে বসল।
অনেকের কাছেই গেলেন বাধ্য হয়ে। কিন্তু খরচতো অনেক! এলেন ইউএনওর কাছে। খালি হাতে কি এই আস্থার প্রতিদান দেওয়া যায়?
আজ ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ তাকে কিছু অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। হয়তো তার চিকিৎসার খরচের কাছে সামান্যই। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভদ্রমহিলা সিট থেকে উঠে গিয়ে ইউএনওর মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখলেন। তার কান্নায় পরিবেশটা ভারি হয়ে এলো। ঘরভর্তি মানুষ কিন্তু শুনশান নীরবতা। আবেগাক্রান্ত ইউএনও জানালেন, পেশার বাইরেও আমাদের সামাজিক দায়িত্ব থাকে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি! সম্ভব হলে আপনারাও তাদের পাশে দাঁড়ান, প্লিজ।
(হেনা রানীকে সাহায্য করতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন)