সিয়াম হত্যার বিচার দাবিতে ময়মনসিংহ-জামালপুর মহাসড়ক অবরোধ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
বৈশাখী মেলায় কথা-কাটাকাটির জেরে স্কুলছাত্র মো. সিয়াম (১৫) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে ময়মনসিংহ-জামালপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন এলাকাবাসী। রবিবার সকাল ১১টা থেকে মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
সিয়ামের সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। এ সময় আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অবরোধের কারণে ময়মনসিংহ-জামালপুর মহাসড়কের মানকোন এলাকার দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনগুলোকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ।
নিহত সিয়াম উপজেলার শিবপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। সে স্থানীয় মানকোন উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের বাবা আবদুস সালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। মেলায় বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিল। তাকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে।
এ সময় আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে মুক্তাগাছার পদুরবাড়ী হাইস্কুল মাঠে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা চলছিল। মেলার ২য়দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ওই মেলায় যায় সিয়াম। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়।
এর কিছুক্ষণ পর মেলার এক পাশে সিয়ামকে একা পেয়ে কয়েকজন বেধড়ক মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হয় সে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সিয়ামের সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, আমাদের সহপাঠীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই। খুনিরা বাইরে থাকবে আর আমাদের বন্ধু কবরে থাকবে, এটা আমরা মেনে নেব না।
খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, চার মাস আগে সিয়াম নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে এলাকার কিছু লোকজন সড়কি অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আবু সাইদ ত্রিশাল